দীর্ঘ অপেক্ষারত মৌসুনি

দীর্ঘ অপেক্ষারত মৌসুনি

কখনও গান সমেত ফুল ভলিয়্যূমে কানে হেড ফোন লাগিয়ে বাস এর উইন্ড সিটে বসলে যে ঝোড়ো হাওয়ার শন-শন শব্দ শোনা যায় যেন তার থেকেও তীব্র হাওয়ার সাড়া আর সেই তৃপ্তির আনন্দে মাথার চুলগুলোও যখন পোষ মানে না ; অথবা অকাল শরতের মেঘ দিক নির্দেশক হয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেবার ফন্দি আটে ; যেন আমাদেরি জন্য দীর্ঘ অপেক্ষারত মৌসুনি পায়ের কাছে এসে নিজেকে বিলীন করে ; মাথার ওপর খোলা কালো আকাশ ঝিকিমিকি তারার দল আর পাগল করা হাওয়া নিঃসঙ্গ আমিকেও যখন সঙ্গ দেয় ; কিংবা গ্রাম বাংলার মাটির গন্ধ আর স্নিগ্ধ বাতাস সারা গা ছুঁয়ে যায় ; বেনামি একদল অচেনা মুখ নিমেষে যখন আপন হয় তখন মনে হয় এটার খোঁজেই তো ছুটে আসা ; তাই সত্যিই আজ এই কথাটা “সত্যি” লাগে- ‘নদীর এপার কয় ছাড়িয়া নিঃশ্বাস/ওপারে সর্ব সুখ আমার বিশ্বাস’ । এই বিশ্বাস নিয়েই মৌসুনিতে বারে বারে আমি যেতে চাই। কারন প্রকৃতি প্রেমি জীবনানন্দ দাশ -র ‘বনলতা সেন’ এর মত মৌসুনিও যেন আমার কাছে – “আরও দূর অন্ধকার বিদর্ভ নগরে আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন, আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন” ।।

Call Now Button
WhatsApp WhatsApp us